চট্টগ্রাম জেলার প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে নির্ধারণের দাবিতে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রামগড়-হেঁয়াকো সড়কের নারায়ণহাট মোড়ে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবছার উদ্দিন হেলাল এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী।
বক্তারা বলেন, “ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলে আলাদা উপজেলা প্রতিষ্ঠা ছিল এ অঞ্চলের বহু বছরের দাবি। দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা ফটিকছড়িকে প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত সরকার ইতোমধ্যেই নিয়েছে। আমরা চাই এই নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট এলাকায় স্থাপন করা হোক — কারণ এটি ভৌগোলিকভাবে মধ্যবর্তী, যোগাযোগসুবিধা সম্পন্ন ও জনবহুল একটি স্থান।”
তাঁরা আরও বলেন, বাগান বাজার ইউনিয়ন থেকে সুয়াবিল ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত এ প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে নারায়ণহাট, তাই এখানেই প্রশাসনিক সদর দপ্তর স্থাপন করা সবচেয়ে যৌক্তিক হবে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, “যদি দাবিটি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে বৃহত্তর উত্তর ফটিকছড়ির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন —
বিজিএমইএর পরিচালক রকিবুল আলম চৌধুরী, নারায়ণহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এমএ ছত্তার, নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আওম ফারুখ হোসাইন, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের চৌধুরী, উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অলি আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম হারুন রশিদ, ব্যাংকার আবুল মনছুর, ব্যবসায়ী ইউসুফ মোহাম্মদ, রাজনীতিক নজরুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন শিকদার, কর আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী খালেদ বিন সরওয়ার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রতন কান্তি চৌধুরী, সমাজসেবক সৈয়দুল হক সৈয়দ প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড সদস্য শওকত উসমান, আলতাফ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন বাবু, তারেক বিন সালাম, সাবেক সদস্য আব্দুল করিম বাবুল, সাবেক ছাত্রনেতা রোকন উদ্দিন শিকদার, সাজ্জাদুল হাসনাত, রবিউল হোসাইন তানজিম, মিনহাজ উদ্দিন, জসিম উদ্দিন চৌধুরী সাজ্জাদ, মুহাম্মদ রাইহান ও জামাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা একযোগে দাবি জানান —
“প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যেন নারায়ণহাট বাজার বা তার আশপাশে স্থাপন করা হয়। এটাই হবে প্রশাসনিক দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত।”
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় জনগণ ‘নারায়ণহাট চাই, যৌক্তিক স্থানে সদর চাই’ শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন এলাকা।


