হেয়াকো মাছ বাজারে রাতের আঁধারে আগুন, স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রক্ষা পেল বাজার

হেয়াকো মাছ বাজারে রাতের আঁধারে আগুন, স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রক্ষা পেল বাজার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেয়াকো বাজারে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যখন রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মাছ বাজার এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক মাছের দোকানে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির সদস্য ও সাধারণ জনগণ দ্রুত এগিয়ে এসে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর তারা আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন নেভাতে স্থানীয়দের সাহসী ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো—তাদের দ্রুত উদ্যোগ না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগুন লেগে যায় বুঝতে পারার পরপরই আমরা দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে ফেলি। যদি সিলিন্ডার ফেটে যেত, তাহলে পুরো বাজারটাই পুড়ে যেত।” এ সময় স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদিও আগুন লাগার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনায় ঠিক কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে বেশ কয়েকটি মাছের আড়ত এবং কিছু দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এই আগুনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ উত্তর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেন। তারা বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অনেক দূরে। যদি কাছাকাছি একটি স্টেশন থাকত, তাহলে আগুন আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যেত।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হেয়াকো বাজার ফটিকছড়ির অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন শতাধিক ব্যবসায়ী মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই এই বাজারে এমন আগুনের ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  1. Default Avatar
    মোঃ বাবুল হোসেন

    হেয়াকো বাজারের অগ্নিকাণ্ড আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। রাতের বেলায় স্থানীয়দের সাহস ও দ্রুত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়, যা না হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    উত্তর ফটিকছড়ির মতো জনবহুল এলাকায় এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকা নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘাটতি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত উত্তর ফটিকছড়ি অঞ্চলে একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।