বাগান বাজারের সন্তান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম সামির আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক প্রকাশনা সংস্থা Elsevier-এর Q1 জার্নাল Knowledge-Based Systems-এ। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৭.৬ এবং CiteScore ১৫ — যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানদণ্ডে অত্যন্ত উচ্চমানের হিসেবে বিবেচিত।
প্রবন্ধটির শিরোনাম: “Multi-Teacher Knowledge Distillation and Ensemble Algorithm for Efficient Brain Tumor Classification in Resource-Constrained Environments with Explainable AI.”
এই গবেষণাটি মূলত মেডিকেল এআই বা চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এতে সীমিত সম্পদের পরিবেশে মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তকরণের জন্য দক্ষ ও ব্যাখ্যাযোগ্য (Explainable) ডিপ লার্নিং মডেল উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রায় এক বছরের কঠোর পরিশ্রম, রাত জেগে কাজ, এবং একাধিক রিভিউ ও সংশোধনের পর অবশেষে প্রবন্ধটি প্রকাশের অনুমোদন পেয়েছে। সাত মাসব্যাপী চার দফা পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় গবেষণাটিকে, যেখানে চারজন রিভিউয়ারের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ মোকাবিলা করতে হয়েছে দলটিকে।
সামি তার পোস্টে উল্লেখ করেন— “এটি ছিল দীর্ঘ এক বছরের যাত্রা। প্রতিটি রিভিউ আমাদের গবেষণাকে আরও শক্তিশালী ও পরিশুদ্ধ করেছে।” তিনি তাঁর সহলেখক মাহির শাহরিয়ার ও শু ভো-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও সহযোগিতার জন্য। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, যিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের উপাচার্য এবং সাবেক অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। সামি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন— “স্যার প্রশাসনিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও প্রতি সপ্তাহে মিটিং করে আমাদের কাজ তদারকি করেছেন। তাঁর নিরন্তর প্রেরণাই আমাদের এগিয়ে নিয়েছে।”
এছাড়া তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী মনি-কে (Program Lead, AI & Digital Health, Charles Sturt University, Australia; Honorary Senior Research Fellow, University of Queensland)। প্রফেসর মনির ৫১ হাজারের বেশি সাইটেশন রয়েছে গুগল স্কলার-এ, যা তাঁর গবেষণাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।
সামি বলেন— “প্রফেসর মনির দিকনির্দেশনা, ধৈর্য ও সহায়তা আমাদের গবেষণাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আমরা তাঁর কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, সামিউলের আরেকটি গবেষণাপত্র গত মাসেই উন্মুক্ত হয়েছে৷ বাগান বাজার থেকে নবীন গবেষকদের জন্য সামিউল অগ্রগামী হয়ে থাকবেন।

