চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা ফটিকছড়ির বাগান বাজার—দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি শুক্রবারে এই হাটে বসে গরু ও ছাগলের বড় বাজার, যেখানে চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। প্রতি হাটের দিনে গড়ে আট থেকে দশ হাজার মানুষ এখানে সমবেত হন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য কোনো গণশৌচাগার নেই, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও অপ্রতুল। ফলে দিনের পর দিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আগত মানুষদের।
এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক ভালো হলেও ন্যূনতম অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় অসুবিধা বেড়েছে। পানির অভাবে এবং শৌচাগার না থাকায় অনেকে পাশের বাগান বাজার জামে মসজিদের পানি ও টয়লেট ব্যবহার করতে বাধ্য হন, এতে মসজিদ ব্যবস্থাপনায়ও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের মাটি ভরাট, আলোকসজ্জা এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অথচ গত অর্থবছরে এই বাজার থেকে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের এত বড় রাজস্ব আয় সত্ত্বেও বাজারের উন্নয়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পানির ব্যবস্থা ও গণশৌচাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, “বাগান বাজার শুধু একটি হাট নয়, এটি ফটিকছড়ির অন্যতম অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। তাই এর উন্নয়ন শুধু বাজারের নয়, পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।”
চট্টগ্রামের ঐতিহ্য বহন করা এই হাটের বর্তমান দুরবস্থা যেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

