উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলায় সম্ভাব্য ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের আলোচনা চলছে। তবে উপজেলা পরিষদ কোথায় স্থাপন হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ উপজেলা পরিষদের অবস্থান নির্ধারণ মানে সেখানেই হাসপাতালসহ সব ধরনের সরকারি সেবা-কেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে এ সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনযাত্রা ও সুবিধা-অসুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ফেসবুকে এক মতামত পোস্টে গবেষক মোহাম্মদ হোশেন বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা কেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়— জনসংখ্যা, দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই তিন মানদণ্ড অনুসারেই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব।
জনসংখ্যা
উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সম্ভাব্য ৬টি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২,৫৪,৫৬৭ জন। এর মধ্যে দক্ষিণের ৩ ইউনিয়ন (ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিল) মিলে জনসংখ্যা ৮৮,৯৯২ জন, আর উত্তরের ৩ ইউনিয়ন (বাগান বাজার, দাতমারা, নারায়ণহাট) মিলে জনসংখ্যা ১,৬৫,৬৪৫ জন। অর্থাৎ, উত্তরাঞ্চলের জনসংখ্যা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণে হোশেনের মতে, নারায়ণহাট বা দাতমারা জনসংখ্যার বিচারে বেশি উপযুক্ত কেন্দ্র।
দূরত্ব
দূরত্বের ভারসাম্যও কেন্দ্র নির্ধারণে বড় বিষয়। উদাহরণ হিসেবে—
যদি ভূজপুরকে কেন্দ্র ধরা হয়, তবে ভূজপুর থেকে বাগান বাজারের দূরত্ব প্রায় ৩১ কিলোমিটার, অথচ সুয়াবিলের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। এতে উত্তরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো বৈষম্যের শিকার হবে।
অন্যদিকে, নারায়ণহাটকে কেন্দ্র ধরা হলে বাগান বাজার থেকে দূরত্ব ২১ কিলোমিটার, আর সুয়াবিল থেকেও প্রায় ২০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, দূরত্বের ভারসাম্যের কারণে নারায়ণহাটই বেশি গ্রহণযোগ্য।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নারায়ণহাট ও দাতমারা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ হোশেন।
সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক
সব দিক বিবেচনায় হোশেনের বিশ্লেষণ— উপযুক্ত উপজেলা কেন্দ্র হবে নারায়ণহাট বা দাতমারা। কিন্তু যদি ভূজপুরকে উপজেলা পরিষদের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা হবে “উত্তরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতি অবিচার”।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “উপজেলা সেন্টার নির্ধারণে যদি কেউ অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে ভূজপুরকে বেছে নেয়, তবে তা হবে জঘন্যতম হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর উপর চরম জুলুম।”
